রাজ্য সরকারগুলোর হাতে বড় অঙ্কের টাকা পৌঁছে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, করের ভাগ বাবদ মোট ১,০৯,০১৯ কোটি টাকা ছাড়া হয়েছে দেশের ২৮টি রাজ্যের জন্য। এই কিস্তি পাওয়ার কথা ছিল ১০ নভেম্বর, কিন্তু উৎসবের মরসুমের কথা ভেবে তা ৫ নভেম্বরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের যুক্তি, হাতে টাকা আগে এলে রাজ্যগুলো পুঁজি খরচ বাড়াতে পারবে, মানে রাস্তা, সেতু আর ভবনের মতো দীর্ঘমেয়াদি কাজে গতি আসবে। একই সঙ্গে উৎসবের সময় কল্যাণমূলক খরচের চাপও সামলানো সহজ হবে।
কে কত পেল, তার হিসাবে সবার ওপরে উত্তর প্রদেশ। রাজ্যটি পেয়েছে ১৯,২০৮ কোটি টাকা। এরপর বিহার পেয়েছে ১০,৮৪৫ কোটি আর মধ্য প্রদেশ ৮,০১০ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গের ভাগে পড়েছে ৭,৮৬৬ কোটি টাকা, মহারাষ্ট্র পেয়েছে ৭,০২২ কোটি।
এই ভাগাভাগি হয় ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী। কেন্দ্রের সংগৃহীত করের বিভাজ্য অংশের ৪১ শতাংশ যায় রাজ্যগুলোর কাছে। কোন রাজ্য কত পাবে, তা ঠিক হয় জনসংখ্যা, আয়তন, আয়ের দূরত্ব, বনভূমি আর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের মতো মাপকাঠি দিয়ে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজ্যগুলোর কাছে করের ভাগ বাবদ প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা পৌঁছেছে বলে সরকারি হিসাবে জানা গেছে। পুরো বছরের জন্য বাজেটে এই খাতে রাজ্যগুলোর ভাগ ধরা আছে ১৫.২৬ লাখ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, ৩১ অক্টোবর কেন্দ্র একই অঙ্কের একটি অতিরিক্ত কিস্তিও ছেড়েছিল। ফলে উৎসবের মরসুমে দুই দফায় বড় অঙ্কের অর্থ রাজ্যগুলোর কোষাগারে ঢুকল।
এই টাকা রাজ্য সরকারগুলোর নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, টাকা পাওয়ার পাশাপাশি তা কতটা উৎপাদনশীল খাতে খরচ হচ্ছে, সেটাই আসল প্রশ্ন।