কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বিশ্ব বাজারে আতঙ্কের এক দিন গেল বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর। আমেরিকার প্রযুক্তি নির্ভর সূচক ন্যাসডাক কম্পোজিট একদিনে পড়েছে ৫.৫২ শতাংশ, বন্ধ হয়েছে ২৪,৩১৫ পয়েন্টে। ১৮ থেকে ১৯ মাসের মধ্যে এটি সূচকটির সবচেয়ে খারাপ দিন। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ পড়েছে ৪.৩৬ শতাংশ, ডাও জোন্স ৩.৪৪ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে চিপ আর AI অবকাঠামোর শেয়ার। ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক পড়েছে ১২ শতাংশের বেশি। AI যুগের সবচেয়ে আলোচিত কোম্পানি এনভিডিয়ার শেয়ার পড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক স্যানডিস্কের পতন ২২ শতাংশ, ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের ১৭ শতাংশ। হিসাবে দেখা যাচ্ছে, একদিনে ন্যাসডাকের বাজারমূল্য থেকে মুছে গেছে প্রায় ২.৩ লাখ কোটি ডলার।

ধাক্কাটা আমেরিকায় থামেনি। শুক্রবার এশিয়ার বাজারে ছড়িয়ে পড়ে বিক্রির ঝড়। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি এক পর্যায়ে ৮.৮ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় লেনদেন সাময়িক বন্ধ, অর্থাৎ সার্কিট ব্রেকার, চালু করতে হয়। জাপানের নিক্কেইও বন্ধ হয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ পতন নিয়ে।

কেন এই আতঙ্ক, তার উত্তরে বাজার বিশ্লেষকরা আঙুল তুলছেন রাজনীতির দিকে। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, নতুন কংগ্রেস AI ডেটা সেন্টার নির্মাণে কড়া নিয়ম আনতে পারে। বিদ্যুৎ আর পানির ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ডেটা সেন্টার বিরোধী মনোভাবও বাড়ছে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার। বৃহস্পতিবার কোনো নতুন AI আইন পাস হয়নি, কোনো কোম্পানির পণ্যও বাতিল হয়নি। বাজার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে। একই সঙ্গে AI খাতে বিপুল খরচের বিপরীতে আয় কবে আসবে, সেই পুরনো প্রশ্নটাও আবার সামনে এসেছে।

আইন প্রসঙ্গে বিশ্বজুড়ে চাপ বাড়ছেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের AI অফিস সম্প্রতি ক্ষমতা প্রয়োগের প্রথম ধাপে ওপেনএআই আর অ্যানথ্রপিকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে। আমেরিকায় অক্টোবরে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক রাজ্যের সমন্বিত মামলার খবরও এসেছে। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণের যুগ ধীরে ধীরে আসছে, আর বাজার তার দাম আগেভাগেই ধরে নিচ্ছে।

ভারতের বাজারে অবশ্য এই ঝড়ের প্রভাব পড়েনি বললেই চলে। শুক্রবার সেনসেক্স আর নিফটি উল্টো বড় উত্থান দেখিয়েছে, যা নিয়ে আলাদা খবর আছে আমাদের বাজার বিভাগে।