ঋণ নেওয়া মানুষের জন্য খরচ বাড়ার দিন ফিরে এল। রিজার্ভ ব্যাংক গত ৭ অক্টোবর রেপো হার ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করেছে। রেপো হার হল সেই হার, যেই হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার নেয়। এই হার বাড়লে ব্যাংকের ঋণের সুদও বাড়ার প্রবণতা থাকে।
বিশেষ বিষয় হল, ৪৪ মাসের মধ্যে এটাই প্রথম হার বৃদ্ধি। মুদ্রা নীতি কমিটির ছয় সদস্যই সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার অবস্থান বদলে নিয়েছে ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং, অর্থাৎ সতর্কভাবে কড়াকড়ির পথে। সহজ ভাষায়, কাছাকাছি সময়ে সুদ কমার আশা প্রায় নেই।
এর প্রভাব ইতিমধ্যে আমানতের বাজারে দেখা যাচ্ছে। নভেম্বরের শুরুতে স্থায়ী আমানতে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সুদ ৬.৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে, বেসরকারি ছোট ব্যাংকগুলোতে হার আরও বেশি, সর্বোচ্চ ৭.৫০ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ ঋণগ্রহীতার খরচ বাড়লেও সঞ্চয়কারীরা কিছুটা বেশি সুদ পাচ্ছেন।
তবে আলোচনা এখানেই থামছে না। কোটক মাহিন্দ্রা ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা উদয় কোটক ৫ নভেম্বর এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, আগামী বৈঠকগুলোতে রেপো হার আরও ৫০ থেকে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। এই ভবিষ্যদ্বাণী ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
রিজার্ভ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের জন্য খুচরো মুদ্রাস্ফীতির অনুমান রেখেছে ৫.২ শতাংশ। দাম বাড়ার চাপ না কমলে ডিসেম্বরের বৈঠকেও কড়া সুর থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
পরের মুদ্রা নীতি বৈঠক বসছে ২ থেকে ৪ ডিসেম্বর। যাঁদের ভাসমান সুদের হারে ঋণ আছে, তাঁদের জন্য সেই বৈঠকের দিকেই এখন নজর।